Ad Code

Google 6.4 কোটি মশা ছাড়তে চায়! আতঙ্ক না বিজ্ঞান? নেপথ্যের আসল কারণ জানলে অবাক হবেন

Google 6.4 কোটি মশা ছাড়তে চায়! আতঙ্ক না বিজ্ঞান? নেপথ্যের আসল কারণ জানলে অবাক হবেন



মশার কামড়ে অতিষ্ঠ মানুষ। আর সেই সমস্যার সমাধানে এবার এমন এক পরিকল্পনা সামনে এসেছে, যা শুনে অনেকেই চমকে উঠেছেন। Google-এর মূল সংস্থা Alphabet-এর একটি প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় 6.4 কোটি মশা ছাড়ার অনুমতি চেয়েছে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। কেউ বলছেন "বিপজ্জনক পরীক্ষা", আবার কেউ মনে করছেন এটি ভবিষ্যতের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বড় পদক্ষেপ।

কেন এত কোটি মশা ছাড়তে চায় Google?

শুনতে অবাক লাগলেও, এই মশাগুলি সাধারণ মশা নয়। Google-এর ‘Debug’ প্রকল্পের আওতায় বিশেষভাবে প্রস্তুত করা পুরুষ মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এদের শরীরে থাকে Wolbachia নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া, যা স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলনের পর ডিম ফুটতে বাধা দেয়। ফলে ধীরে ধীরে রোগবাহী মশার সংখ্যা কমে যায়।

মানুষকে কি কামড়াবে এই মশা?



সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যে মশাগুলি ছাড়া হবে সেগুলি পুরুষ মশা। বিজ্ঞানীদের মতে, পুরুষ মশা মানুষের রক্ত খায় না এবং কামড়ায়ও না। ফলে সরাসরি মানুষের ওপর আক্রমণের আশঙ্কা নেই।


কোন রোগ রুখতেই এই উদ্যোগ?

ডেঙ্গু, জিকা, চিকুনগুনিয়া, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মতো একাধিক বিপজ্জনক রোগ মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বিশেষ করে Aedes aegypti প্রজাতির মশা বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সেই রোগবাহী মশার সংখ্যা কমাতেই এই অভিনব কৌশল ব্যবহার করতে চায় Google।


সফল হয়েছে আগেও!

এটি একেবারে নতুন প্রযুক্তি নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু পরীক্ষামূলক এলাকায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগবাহী মশার সংখ্যা ৯০ শতাংশেরও বেশি কমানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশেও একই ধরনের পদ্ধতি ইতিমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।


তাহলে বিতর্ক কেন?

পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্যে হস্তক্ষেপ করলে ভবিষ্যতে অপ্রত্যাশিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে বহু বিজ্ঞানী মনে করছেন, কীটনাশকের তুলনায় এটি অনেক বেশি লক্ষ্যভিত্তিক এবং পরিবেশবান্ধব সমাধান হতে পারে।


এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

বর্তমানে মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (EPA) এই প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে। অনুমোদন মিললে আগামী দুই বছরে ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডার নির্দিষ্ট এলাকায় ধাপে ধাপে এই মশাগুলি ছাড়া হতে পারে।


"মশা মারতে আরও মশা!"—শুনতে অদ্ভুত লাগলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা নিতে পারে। তবে প্রকৃতির সঙ্গে এমন পরীক্ষার ফল কতটা ইতিবাচক হবে, তা সময়ই বলবে।

Post a Comment

0 Comments

Close Menu